কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় নিখোঁজের ৪৫ ঘণ্টা পর ওয়াহিদুল ইসলাম (৭) নামে এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ পরিত্যক্ত একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফজুমিয়াজির চরের একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত ওয়াহিদুল ইসলাম পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়া গ্রামের ইজিবাইকচালক মো. তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে। সে স্থানীয় মাইজপাড়া নূরানী মাদরাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাদরাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয় ওয়াহিদুল। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয়রা ফজুমিয়াজির চরের পরিত্যক্ত ডোবার ময়লা পানিতে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকাল ৯টার দিকে অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার পরপরই ওয়াহিদুলকে হত্যা করে তার মরদেহ ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় পানিতে পড়ে থাকায় মরদেহে পচন ধরে এবং দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে পরিবার ও এলাকাবাসীর সন্দেহের ভিত্তিতে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।”
পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক। আশা করছি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনবে।”
চকরিয়া সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিত দাস বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।”