• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন
Headline
নাটোরে আত্রাই নদীর শহর রক্ষা বাঁধে ধস সিংড়ায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু পারিবারিক বিরোধে ভাতিজার ছুরিকাঘাতে চাচার মৃত্যু, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া-মাতামুহুরীতে ভয়াবহ বন্যা, পাহাড়ধসে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইজিবাইক চালকের মৃত্যু সিংড়ায় ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশা চালক নিহত সিংড়ায় গ্লোবাল টিভির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন সাংবাদিক কন্যা সৈয়দা তামান্না হোরায়রার (সহকারী কমিশনার ভূমি) সরকারি রাজস্ব আদায়ে সফলতা! অনিশ্চিত সমুদ্রযাত্রা, জেলেদের বীমার আওতায় নেওয়া সময়ের দাবী টেকসই উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান ইউএনও শাহীন দেলোয়ারের

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া-মাতামুহুরীতে ভয়াবহ বন্যা, পাহাড়ধসে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি / ৩৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গিয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাতে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মোহছেনিয়া কাটা এলাকায় পাহাড়ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় চাচাতো-জেঠাতো দুই ভাই-বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন—রুমি আক্তার (১৫), মোহাম্মদ কাজলের কন্যা ও বরইতলী দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং মোহাম্মদ তৌসিফ (১০), আবদুল মজিদের পুত্র ও স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় দুই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোমর থেকে হাঁটুসমান পানি জমে গেছে। তলিয়ে গেছে অসংখ্য গ্রামীণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষকের বীজতলা ও মৌসুমি ফসলের ক্ষেত। বন্ধ রয়েছে যান চলাচল ও শিক্ষা কার্যক্রম। অনেক পরিবারের ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বন্যাকবলিত মানুষের অভিযোগ, তিন দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করলেও অনেক এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পৌঁছেনি। তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, চকরিয়া উপজেলা, পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার জন্য এ পর্যন্ত ৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। ইউএনও, এসিল্যান্ডসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান বলেন, তাঁর ইউনিয়নের ডেইঙ্গাকাটা, শান্তির বাজার, বিবিরখিল, পহরচান্দা, রসুলাবাদ, হিন্দুপাড়াসহ একাধিক এলাকায় অন্তত ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। একই সঙ্গে সোনাইছড়ি নদীর তীব্র স্রোতে কয়েকটি এলাকায় সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, টানা বর্ষণ ও বন্যার মধ্যেই পাহাড়ধসে দুই ভাই-বোনের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন দেলোয়ার বলেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দুই উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে মাইকিং করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু রাখা হয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা