কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং জনাকীর্ণ এলাকা ‘সবুজবাগ আবাসিক এলাকা’। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামান্য বৃষ্টিতেই এই এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা। ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি এবং তদারকির অভাবে একটু বৃষ্টিতেই সড়ক থেকে শুরু করে মানুষের বাড়িঘর পর্যন্ত তলিয়ে যাচ্ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো বাসিন্দা। এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ও দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে একটি বিশেষ প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।
সংকটের মূল কারণ ও সমাধানের প্রধান ৪টি দাবি:
১. ড্রেনের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি ও পুনর্খনন:
সবুজবাগ এলাকার বর্তমান ড্রেনগুলো অত্যন্ত সরু এবং তুলনামূলকভাবে আকারে ছোট। ফলে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।
করণীয়: পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করতে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেনগুলো পুনর্খনন করা এবং এগুলোর প্রস্থ ও গভীরতা বৃদ্ধি করে নতুন করে সংস্কার করা প্রয়োজন।
২. বহিরাগত পানি ডাইভারশন (বিকল্প নিষ্কাশন পথ):
সবুজবাগের প্রধান ড্রেনগুলোর উপর পার্শ্ববর্তী অন্যান্য এলাকার পানির অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। বাইরের পানি এই এলাকায় প্রবেশ করার কারণে ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।
করণীয়: অন্য এলাকার পানি যাতে সবুজবাগের আবাসিক এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য একটি আলাদা বাইপাস ড্রেন বা বিকল্প পানি নিষ্কাশন পথ তৈরি করা জরুরি।
৩. অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ:
দীর্ঘদিন ধরে ড্রেন ও প্রাকৃতিক পানি চলাচলের পথগুলো দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন অবৈধ স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা। ড্রেনের মুখগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি আটকে জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে।
করণীয়: চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ড্রেনের উপরে ও পাশে গড়ে ওঠা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে।
৪. নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও পৌরসভার কঠোর তদারকি:
প্লাস্টিক বর্জ্য, পলিথিন এবং গৃহস্থালি ময়লা জমে ড্রেনগুলোর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এগুলো পানি নিষ্কাশনের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
করণীয়: বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পূর্বেই এবং পুরো বছর জুড়ে নিয়মিত ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে একটি স্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী দল নিয়োজিত রাখা এবং কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আমাদের প্রত্যাশা:
সবুজবাগ আবাসিক এলাকার জলাবদ্ধতা কেবল একটি সাময়িক সমস্যা নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় হুমকি। জমা পানিতে মশার বংশবিস্তার যেমন বাড়ছে, তেমনই ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও তীব্র হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে এবং একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য উপশহর গড়ে তুলতে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন এবং পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট অতি দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।