• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ন
Headline
ঝিনাইদহ মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা, দুই বাংলাদেশি আটক পেকুয়ায় অস্ত্র মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী গ্রেফতার এপেক্স ক্লাব অব চকরিয়া সিটির ২০২৭ বর্ষের প্রেসিডেন্ট ডা. ওম প্রকাশ, সেক্রেটারি জুলফিকার নাটোরের সিংড়ায় বালিবাহী টলির পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ১, আহত ১ পেকুয়ার নোয়াখালীপাড়ায় বসতঘর ভস্মীভূত পেকুয়ায় ভোররাতে আগুনে পুড়ল চলন্ত ট্রাক, রক্ষা পেলেন চালক-হেলপার মাতামুহুরীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আসবাবপত্র আত্মসাৎ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ মগনামায় বিএনপির দুই প্রার্থীসহ একাধিক প্রার্থী মাঠে চকরিয়ায় আ.লীগের গোপন বৈঠক থেকে ৯ জন গ্রেপ্তার চলনবিলে শামুক-ঝিনুক নিধন বন্ধে প্রশাসনের অভিযান, ৩ জনকে কারাদণ্ড

মাতামুহুরীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আসবাবপত্র আত্মসাৎ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি / ২৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের পুরোনো আসবাবপত্র অনুমতি ছাড়া বিক্রি, আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র ও ছাড়পত্রের জন্য টাকা আদায় এবং কোচিং বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠনেও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।

এসব বিষয়ে গত ১ নভেম্বর কক্সবাজার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুস্তম আলী। অন্যদিকে, এসএমসি কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর পৃথক আবেদন করেছেন সভাপতি পদপ্রার্থী স্থানীয় অভিভাবক শফিক উদ-দৌলা।

রুস্তম আলীর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয়ের পুরোনো আসবাবপত্র বিক্রি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির দিকে বিদ্যালয়ের পুরোনো বেঞ্চ, চেয়ার ও টেবিলের লোহাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ডাম্পার ও টমটমযোগে অন্যত্র নিয়ে ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করা হয়েছে।
ট্রলিচালক মো. মোর্শেদ জানান, চকরিয়া পৌরসভার ফুলতলা এলাকায় পুরোনো আসবাবপত্র পৌঁছে দিতে তাঁকে ৫০০ টাকায় গাড়ি ভাড়া করা হয়েছিল। চায়ের দোকানদার সোয়েব তাঁর গাড়িটি ভাড়া করে দেন। তবে আসবাবপত্র কত টাকায় বিক্রি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রত্যয়নপত্র ও ছাড়পত্র প্রদানের সময় অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, অভিভাবক মো. মেহেদী হাসান রানার কাছ থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার জন্য ১৫০ টাকা নেওয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি অনুদানের অর্থ এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মালামালের হিসাব-নিকাশ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, এসব অনিয়মের কারণে বিদ্যালয়ের প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। অভিযোগের সমর্থনে কিছু ছবি ও স্থিরচিত্র এবং পূর্বে দাখিল করা অভিযোগের কপি সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটি গঠন নিয়েও নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে ইউএনও বরাবর দেওয়া আবেদনে সভাপতি পদপ্রার্থী শফিক উদ-দৌলা অভিযোগ করেন, সভাপতি নির্বাচনের সময় ভোটগ্রহণে প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক নিজেও ভোট দেন। এতে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর ভোট সমান ৬-৬ হয়। কিন্তু সমান ভোটের পরও প্রধান শিক্ষক তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে সভাপতি ঘোষণা করার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শফিক উদ-দৌলার অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারী মনোভাব এবং স্থানীয় রাজনৈতিক বলয়কে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে বিদ্যালয় এলাকায় বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। এতে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

তিনি বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অথবা সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিধি অনুযায়ী নতুন করে সভাপতি নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। একই সঙ্গে অনিয়মের মাধ্যমে গঠিত কমিটির বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র বিক্রি, অর্থনৈতিক লেনদেন, প্রত্যয়নপত্রের জন্য টাকা আদায় এবং এসএমসি কমিটি গঠনসহ সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ফার্নিচার বিক্রি করিনি ওগুলো মেরামত করতে নিয়ে গিয়েছিলাম। এসএমসি কমিটি এখনো স্থগিত রয়েছে এবিষয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম মনির উদ্দিনের এক্তিয়ার।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা