বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি) পার্টি -এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর সমালোচনা করে বলেছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নেওয়ার পর বারবার জনগণকেই প্রতারিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, হাতের কালি এখনো শুকায়নি, অথচ রিমান্ডের ভয়াবহ স্মৃতি যেন উধাও হয়ে গেছে। বিচার বিভাগ, ব্যাংকিং খাতসহ রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা থেকে সরে এসেছে ক্ষমতাসীনরা।
আজ বিজয়নগরস্থ দলের কার্যালয়ে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখের আলোচনা সভায় এবি স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীরের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল।
মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশের জনগণের সহজ-সরল মনোভাবের সুযোগ নিয়েই বারবার প্রতারণা করা হচ্ছে। তবে ইতিহাস সাক্ষী,এই কোমলতা ভেঙে কঠোর হলে জন্ম নেয় গণঅভ্যুত্থান। তিনি ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ, এবং ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে বলেন, জনগণের জাগরণই শেষ পর্যন্ত অন্যায়ের অবসান ঘটায়।
নির্বাচন ও গণতন্ত্রের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের কথা থাকলেও বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। গণভোটকে জনগণের মতামত প্রকাশের সর্বোত্তম পন্থা হিসেবে উল্লেখ করে মঞ্জু অভিযোগ করেন, ৭০ শতাংশ গণরায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেও সরকার উপেক্ষা করছে, যা নজিরবিহীন।
মঞ্জু অভিযোগ করেন, যারা ক্ষমতায় আছে তারা জনগণের ভোটকে সম্মান না করে বরং সেই ভোটকেই ব্যবহার করছে নিজেদের স্বার্থে। ভোটের পরপরই ফ্যামিলি কার্ড,খাল খনন ও কৃষক কার্ডের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেও তারা কিছুদিন আগের জেল জুলুম রিমান্ড ও বালুর ট্রাকের কথা ভুলে গেছেন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মঞ্জু বলেন, সাধারণ মানুষ একদিকে অর্থনৈতিক চাপে জর্জরিত। অনেক আশা নিয়ে ২০২৪ সালের আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখা হলেও বাস্তবে সেই আশা ভেঙে গেছে। আন্দোলনের সহযাত্রীরাই এখন আগের প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবি পার্টির চেয়ারম্যান।
নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ষড়ঋতুর অপূর্ব এক দেশ, নদীনালা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। নতুন বছরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
আলোচনা সভায় এবি পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা নতুন বছরের শুরুতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা,এবিএম খালিদ হাসান, মোঃ আলতাফ হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান,শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, ত্রাণ ও পূর্ণবাসন সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া, সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন,গণপরিবহন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ,মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, ছাত্রপক্ষের সাধারণ সম্পাদক রাফিউর রহমান ফাত্তাহ, গাজীপুর মহানগরের সদস্য সচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা,সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ( ঢাকা) শাজাহান ব্যাপারী,সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, শ্রম বিষয়ক সহ সম্পাদক আজিজা সুলতানা,ব্যাংকিং ও বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদকএএসএম মোকাররেবুর রহমান নাসিম,সহকারী দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু,উদ্দ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সহ সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা, আমেনা বেগম,সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল,এবি যুব পার্টির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান ইমতু,দক্ষিণের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান,এবি যুব পার্টির ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব ইশরাত জাহান লিজা, নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সমন্বয়ক শরীফ হোসেন ও রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী।