আগের পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়ন হয়নি, ১৪৫ বিদ্যালয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি
আগের বৃত্তি পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়ন ও নির্দেশনা অনুযায়ী বৃত্তি প্রদান না করার অভিযোগের মধ্যেই নতুন করে পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজারের চকরিয়ার আলোকিত ফাউন্ডেশন। ‘আলোকিত স্বর্ণপদক মেধাবৃত্তি-২০২৫’ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের পর ফল পুনর্মূল্যায়ন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমতি ছাড়া বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করেই ২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে ফাউন্ডেশনটির বিরুদ্ধে। এ পরিস্থিতিতে ইউএনওর নির্দেশনা অনুযায়ী চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার ১৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। অনুমোদন ছাড়া বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইউএনও।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে আলোকিত ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘আলোকিত স্বর্ণপদক মেধাবৃত্তি’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, ফলাফল প্রকাশ এবং প্রসপেক্টাসে ঘোষিত শর্ত অনুযায়ী বৃত্তি প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন চকরিয়ার কয়েকজন অভিভাবক। এ ঘটনায় ফাউন্ডেশনটির চেয়ারম্যান ও মহেশখালীর শাপলাপুর এলাকার বাসিন্দা জাফর আমিনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন করেন তাঁরা।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চকরিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন দেলোয়ার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ফখর উদ্দিন ফরায়েজি ও রিয়ানুল কবিরকে নিয়ে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯১(১) নম্বর স্মারকে আদেশ জারি করেন ইউএনও। ওই আদেশে আলোকিত ফাউন্ডেশনের ঘোষিত ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা নিতে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইউএনওর অনুমতি ছাড়া চকরিয়া উপজেলায় আলোকিত ফাউন্ডেশনসহ সব ধরনের সংস্থার বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটির সদস্য রিয়ানুল কবির যুগান্তরকে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা জারির পর এক মাসের বেশি সময় পার হলেও ২০২৫ সালের পরীক্ষার ফল পুনর্মূল্যায়ন করে যথাযথভাবে বৃত্তি প্রদান করা হয়নি। এর মধ্যেই ফাউন্ডেশনটির পক্ষ থেকে ২০২৬ সালে নতুন করে বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় অভিভাবক ও সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, আগের পরীক্ষার অনিয়মের অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করেই কীভাবে নতুন করে বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে?
এদিকে, ইউএনওর নির্দেশনা বাস্তবায়নে ১ নভেম্বর চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার ১৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোকে জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইউএনওর অনুমোদন যাচাই এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার আয়োজিত বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যাবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলোকিত ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাফর আমিন বলেন, ‘আমরা কক্সবাজারের সব জায়গায় বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করতেছি।’ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের বিষয়ে সরাসরি কথা বলবেন বলে জানান তিনি। এরপর মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন দেলোয়ার বলেন, ‘পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’