কক্সবাজারের চকরিয়ায় একই রাতে পৃথক দুটি স্থানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
রবিবার (২৪ মে) শেষ প্রহর ও ভোররাতে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়ন ও কৈয়ারবিল ইউনিয়নের দুটি বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের টানা তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদারের বাড়িতে মুখোশধারী একদল ডাকাত হানা দেয়। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ডাকাতরা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ারম্যানের স্ত্রী ও সন্তানদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। পরে আলমিরা ও ড্রয়ার তছনছ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। ঘটনার সময় চেয়ারম্যান কারাবন্দী থাকায় তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না।
চেয়ারম্যানের শ্যালক মফিজুর রহমান জানান, কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডাকাতদল ঘরে তাণ্ডব চালিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের স্ত্রী জয়নব আক্তার চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে, একই রাতে উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ইসলামনগর এলাকায় ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান চৌধুরী (বেদার চৌধুরী)র বাড়িতেও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে দুইজন সশস্ত্র ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে তাকে ও তার স্ত্রীকে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত)-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, দুটি ঘটনাকেই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি।
একই রাতে পৃথক দুই এলাকায় এ ধরনের ডাকাতির ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ডাকাতচক্রকে গ্রেপ্তার করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।