চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকা দীর্ঘ দিন ধরে চিকিৎসাধীন সম্পূর্ণ ভাবে সুস্থ হয়ে ওঠা চারজন শিশু ও একজন মহিলা রোগীকে আনুষ্ঠানিক ভাবে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) প্রদান করা হয়।
হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের সুস্থতা ও নতুন জীবনের আনন্দকে স্মরণীয় করে রাখতে সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এক ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক আয়োজন করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সুস্থ হওয়া রোগীদেরকে হাসপাতালের পক্ষথেকে রোগীর হাতে শুভেচ্ছা প্রতীক হিসেবে গোলাপ ফুল, পুষ্টিকর জুস ও ডাব তুলে দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীন ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মিসকাত উদ্দীন আহমদ।
এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানেটারী ইনস্পেক্টর আরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ হোছাইন ও মিজানুর রহমানসহ কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং হাসপাতালের অন্যান্য সাপোর্টিং স্টাফগণ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীন বলেন, হাম রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে হাসপাতালে এই পর্যন্ত ৩৮৫ জন রোগীকে হাম আইসোলেশনে ভর্তি রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক নিয়মিত রোগীদের পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করে সর্বোচ্চ সাপোর্ট দিয়ে আসছে। যার প্রেক্ষিতে সহসাই হাম প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠে। এসব রোগীদের সাহস যোগানো, মানসিকভাবে উৎসাহিত করা এবং সমাজে একটা ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে হাসপাতালের পক্ষ থেকে এ আয়োজন করা হয়। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো শনাক্তকরণ, যথাযথ আইসোলেশন ব্যবস্থা এবং মানসম্মত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা রোগীদের হাসিমুখ ও স্বজনদের স্বস্তিই স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিশ্রমের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
তিনি আরও জানান, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকাদান। কোনো শিশুকে যেন হাম-রুবেলা টিকা থেকে বাদ না দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে আইসোলেশনে রাখতে হবে।
ডিসচার্জপ্রাপ্ত রোগী ও তাদের স্বজনরা হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক সেবা, যত্ন এবং মানবিক আচরণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মানসম্মত চিকিৎসাসেবা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ১০০ শয্যা বিশিষ্ট চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।