চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের সাবেক মেধাবী শিক্ষার্থী ও বদরখালী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রাকিবুল হোসাইন রকিবের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও তথ্যবিহীন রিপোর্ট প্রকাশ করে মানহানির চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার ফেসবুকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। একইভাবে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের শিক্ষক এবং চকরিয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এম. রিদুয়ানুল হক (এমএ)। এছাড়াও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে সাংবাদিক সাঈদী আকবর ফয়সালসহ বেশ কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডা. রাকিবের চিকিৎসা সেবা নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ও রিপোর্ট ছড়িয়ে পড়ার পর এই প্রতিবাদ জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকাশিত রিপোর্টগুলোতে উপস্থাপিত তথ্যসমূহ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতার সাথে এর কোনো সংগতি নেই।
চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ ভিত্তিহীন: কর্তৃপক্ষ
বদরখালী জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট রোগীকে হাসপাতালে সম্পূর্ণ যথাযথ চিকিৎসা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছিল। চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি করা হয়নি। রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ও জরুরি চিকিৎসা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা প্রেসক্রিপশন জালিয়াতি, তথ্য গোপন কিংবা দায় এড়ানোর উদ্দেশ্যে কোনো কার্যক্রম পরিচালনার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাও সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবাদকারীরা জানান, “কোনো ধরনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথিপত্র (Medical Records) পর্যালোচনা ছাড়া একজন পেশাদার চিকিৎসক বা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর ও স্পর্শকাতর অভিযোগ প্রচার করা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”
সাংবাদিক ও শিক্ষক এম, রিদুয়ানুল হকের স্ট্যাটাসে দেখা যায়, ডা. রাকিবুল হোসাইন রাকিব তাঁর সরাসরি ছাত্র। ছাত্র হিসেবে তাঁর স্বভাব-চরিত্র, আচার-আচরণ ও নৈতিকতা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং পেশাগত জীবনে সে একজন অত্যন্ত মানবিক ও দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। কার বা কাদের ইন্ধনে একজন ভালো চিকিৎসকের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।
পারিবারিক বক্তব্যের অমিল ও তদন্তের দাবি
প্রতিবাদে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনা হয়েছে। সম্প্রতি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত মরহুম ফাহিমের ভাইয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্ট্যাটাসের সাথে তাঁর বাবার বক্তব্যের সম্পূর্ণ অমিল রয়েছে। ফাহিমের জানাজার নামাজে তাঁর বাবা যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তার অডিও/ভিডিও রেকর্ড সংরক্ষিত আছে। বাবার সেই বক্তব্যের সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার কোনো মিল নেই।
বিবৃতিতে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের স্বার্থে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরার জোর দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে, কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়া অযথা কাউকে সামাজিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা না করার জন্য এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বস্তরের মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।