রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় এটিকে দেশের বিচারিক ইতিহাসের অন্যতম দ্রুততম রায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রোববার (৭ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
সংক্ষিপ্ত রায়ে আদালত বলেন, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করেছেন সোহেল রানা—এ অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত মনে করেন, সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার অপরাধ সংঘটন ও তা গোপনের ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছেন।
রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক উল্লেখ করেন, স্বপ্না তার স্বামীর অপরাধ ঠেকানোর কোনো চেষ্টা করেননি; বরং অপরাধ আড়াল, মরদেহ গুমের চেষ্টা এবং সোহেলকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন। ফলে আইন অনুযায়ী তিনি সমানভাবে দায়ী এবং সর্বোচ্চ শাস্তির যোগ্য।
আদালত বলেন, “এটি শুধু একটি শিশুর বিরুদ্ধে নয়, পুরো সমাজের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ। এমন নৃশংস ঘটনার উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা বিচার বিভাগের দায়িত্ব।”
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অতিরিক্ত তিন প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং সকাল সাড়ে আটটা থেকে পৌনে নয়টার মধ্যে দুই আসামিকে কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে আনা হয়। বেলা ১১টার কিছু পর তাদের এজলাসে তোলা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে মিরপুরের পল্লবীতে নিজ বাসার পাশের একটি ফ্ল্যাটে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন মহল সোচ্চার ভূমিকা পালন করে।
ঘটনার দিনই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন নিহত শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা হলো।