ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের আকাশ-বাতাস যেন এখনও ভারি হয়ে আছে হাজারো মানুষের দীর্ঘশ্বাসে। যার ইশারায় একসময় অঞ্চলের অর্থনীতি পরিচালিত হতো, যার মুখের কথায় সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী- সবাই চোখ বন্ধ করে হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে দিতেন, সেই কুখ্যাত হুন্ডি সম্রাট ‘কাজল’ আজ লোকচক্ষুর আড়ালে। কিন্তু তার রেখে যাওয়া ক্ষতচিহ্ন এবং ঋণের বোঝায় পিষ্ট কোটচাঁদপুরের মানুষ আজও মুক্তি মেলেনি।
একসময় কোটচাঁদপুরসহ আশেপাশের কয়েকটি জেলার মানু ‘ষের কাছে ‘হুন্ডি কাজল’ ছিল এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম। কোনো আইনি জটিলতা বা ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করেই সে গড়ে তুলেছিল অবৈধ হুন্ডির এক বিশাল সাম্রাজ্য। মানুষের বিশ্বাস অর্জন করার জন্য শুরুতে সুদে-আসলে টাকা ফেরত দিয়ে সে তৈরি করেছিল এক বিশাল ফাঁদ। আর সেই ফাঁদে পা দিয়ে আজ পথের ফকির অনেক পরিবার। হঠাৎ করেই যখন এই ব্যবসার পতন ঘটে, তখন চোখের পলকে উধাও হয়ে যায় মানুষের অর্জিত কোটি কোটি টাকা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই হুন্ডি কারবার শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণই হয়নি, বরং কোটচাঁদপুর অঞ্চলকে উন্নয়নের দিক থেকে অন্তত ২০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। এই অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে স্থানীয় বিনিয়োগের টাকা পাচার হয়েছে বিদেশে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে করেছে পঙ্গু। অসাধু এই কারবারের ফলে কোটচাঁদপুরের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো চরম সংকটের মুখে পড়েছিল।
বর্তমানে কুখ্যাত এই হুন্ডি ব্যবসায়ী কোথায় আছে, কিংবা কেমন আছে—তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই কোটচাঁদপুরবাসীর কাছে। তার অশুভ ছায়ার নিচে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়া মানুষগুলো আজও দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। প্রশ্ন উঠছে, হাজার হাজার মানুষের স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া এই ব্যক্তি কি তবে আইনের আওতার বাইরেই রয়ে যাবে? নাকি কোনো গোপন আস্তানায় বসে সে আজও নতুন কোনো ষড়যন্ত্রের ছক কষছে?
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রশাসন যেন জরুরি ভিত্তিতে কাজলের অবস্থান নিশ্চিত করে এবং তার অবৈধভাবে গড়ে তোলা সম্পদের হিসেব নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।
কোটচাঁদপুরবাসী এখন কেবল একটিই উত্তর চায়সেই হুন্ডি কাজল কোথায়? যে মানুষটি পুরো একটি অঞ্চলের অর্থনীতিকে জিম্মি করে নিজের আখের গুছিয়েছিল, তার বিচার কি আদৌ হবে? সময়ের প্রয়োজনে এখন এই রহস্য উন্মোচন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।