ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর–সাফদারপুর সড়কের মোকসেদ মোড় থেকে বলুহর বড় বিল মাঠ পর্যন্ত ২ হাজার ৬০০ মিটার সড়কের কার্পেটিং কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি কাজ চলছে ধীরগতিতে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কে হ্যারো করে রাখায় সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির ২ হাজার ৬০০ মিটার কার্পেটিং কাজের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসমা ইঞ্জিনিয়ারিং। তবে কাজের শুরু থেকেই ধীরগতি এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে হ্যারো করে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। বিশেষ করে মালবোঝাই যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক চালক ঝুঁকি এড়াতে লক্ষ্মীকুণ্ডু ও বলুহর গ্রামের ভেতরের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকল্প পথে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে সেখানেও প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। গরু, ছাগল, মুরগি ও পথচারীদের সঙ্গে যানবাহনের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে বলে তারা জানান।
এর আগে প্রায় তিন মাস আগে সড়কের নির্মাণ সামগ্রীর মান নিয়ে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রকৌশলী কল্পনা রানীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানিয়েছিলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ওই সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হবে।
তখন সড়কের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে প্রকৌশলী সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানা যায়। তাঁর ভাষ্য ছিল, সড়কে ইতোমধ্যে হ্যারো করা হয়েছে; এ অবস্থায় সংবাদ প্রকাশ হলে কাজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ঠিকাদারদের এমনিতেই কাজের প্রতি আগ্রহ কম।
তবে প্রায় তিন মাস পরও একই ধরনের নিম্নমানের সামগ্রী সড়কের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এসব সামগ্রী দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটির স্থায়িত্ব নষ্ট হতে পারে। এতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হবে।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানান, নির্মাণসামগ্রীর নমুনা ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে। তা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর সামগ্রীর মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হোসেন বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। তবে আমি বিষয়টি দেখছি।
অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রোপ্রাইটর মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, যদি নিম্নমানের হয়ে থাকে, তাহলে ওই সামগ্রী দিয়ে কাজ হবে না। সেটা পরিবর্তন করে দেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষায় নিম্নমানের সামগ্রী প্রমাণিত হলে তা অপসারণ করে নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও সড়কের দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি কামনা করেছেন তারা।