কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকায় ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা আরফা বেগম হত্যা মামলায় ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তার চার আসামিকে চকরিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পিবিআই কক্সবাজার। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে এক আসামির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নাছরিন সোলতানা মুন্না (২৮), জয়নাব বেগম (২২), আবদুল আজিজ (৩৫) এবং আলীমুন্নেছা। নাছরিন সোলতানা মুন্নার স্বামীর নাম সামশুল আলম বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার বাদী নিহতের নাতি মো. পারভেজ উদ্দিন (২৯)। তিনি চকরিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পালাকাটা, হাশেম মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর বিকেল আনুমানিক ৩টা থেকে ১১ নভেম্বর সকাল ৬টার মধ্যে চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ আবাসিক এলাকার হাফেজ টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় আরফা বেগমকে হত্যা করা হয়। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মামলা করতে আগ্রহী না হওয়ায় এবং মামলা করলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নিহতের নাতি পারভেজ উদ্দিন বাদী হয়ে চলতি বছরের ১৬ মার্চ আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই কক্সবাজার। তদন্তের একপর্যায়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত চার আসামিকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, আসামিদের মধ্যে একজন নিকটাত্মীয়কে মামলা থেকে রক্ষা করতে একটি পক্ষ বাদীকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাদী পারভেজ উদ্দিন। তার অভিযোগ, চকরিয়া পৌরসভার এক সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা তাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি লোকজন দিয়ে অপহরণ, হত্যা ও লাশ গুম করার হুমকি দিচ্ছেন।
এ ঘটনায় তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক কাউন্সিলরের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে মামলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।