• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন
Headline
কোটচাঁদপুরে চুরির সময় হাতেনাতে চোর আটক, আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন জোড়াতালি দেওয়া টিনের ঘরে সুফিয়ার মানবেতর জীবন কোটচাঁদপুরে ২০ পিস ইয়াবাসহ দুই কারবারি আটক চলনবিলে পাখি শিকারের ফাঁদ, পরিবেশকর্মীদের দেখে পালাল শিকারিরা সাহারবিলে নতুন কুঁড়ি মেধাবৃত্তির পুরস্কার বিতরণ চকরিয়া পৌরসভায় পানি, স্যানিটেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের দাবি পেকুয়ায় পথের রাস্তার বিরোধে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম সিংড়ায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় চরম দুর্ভোগ, শত শত মানুষের ভোগান্তি কক্সবাজার জেলা ফুটবল দলের গোলরক্ষক সাঈদীর উপর হামলার প্রতিবাদে পেকুয়ায় মানববন্ধন সিংড়ায় স্রোতিজালের কাঠামো অপসারণ করলো প্রশাসন

জোড়াতালি দেওয়া টিনের ঘরে সুফিয়ার মানবেতর জীবন

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা / ১৪ Time View
Update : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

স্বামী নেই। নিজের কোনো জমিজমা নেই। থাকার জন্য নেই নিরাপদ ঘর। ভাইদের দেওয়া মাত্র আধা শতাংশ জমিতে জোড়াতালি দেওয়া টিনের ঘরে কোনো রকমে দিন কাটছে সুফিয়া বেগমের। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ে, আর রোদের দিনে টিনের ঘর হয়ে ওঠে অসহনীয় গরম। এর সঙ্গে ঘরের চারপাশে জমে থাকা দুর্গন্ধযুক্ত পানি যেন তাঁর দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বলুহর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা সুফিয়া বেগম। তাঁর স্বামীর নাম মৃত ময়জদ্দিন এবং মায়ের নাম হালিমা খাতুন। স্বামীকে হারিয়ে অসহায় এই নারী দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করলেও এখন পর্যন্ত সরকারি বয়স্ক বা বিধবা ভাতার কোনো সুবিধা পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাইদের দেওয়া আধা শতাংশ জমিতে একটি ছোট টিনের ঘরে বসবাস করেন সুফিয়া। ঘরটির টিন পুরোনো ও জোড়াতালি দেওয়া। বৃষ্টির সময় বিভিন্ন জায়গা দিয়ে পানি পড়ে। অন্যদিকে প্রচণ্ড গরমে টিনের ঘরে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে।

শুধু ঘরের সমস্যাই নয়, তাঁর বসতঘরের চারপাশের পরিবেশও অত্যন্ত নাজুক। এক ভাইয়ের গোয়ালঘরের গোবর ধোয়া দুর্গন্ধযুক্ত পানি ঘরের সামনে দিয়ে যায়। আরেক ভাইয়ের বাড়ির বাথরুম, প্রস্রাবখানা ও গোয়ালঘরের নোংরা পানি বসতঘরের পাশেই জমে থাকে। এতে দুর্গন্ধের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

সুফিয়া বেগমের দাবি, তিনি ভূমিহীন ও অসহায় হওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি অনুদান বা উল্লেখযোগ্য সহায়তা পাননি। বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কোনোটিই তাঁর ভাগ্যে জোটেনি। ফলে নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতেই তাঁকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বলুহর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওলিয়ার রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ওই ওয়ার্ডের মেম্বার রবিউল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করে দেখবো কি করা যায়।

বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আনলে কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম হোসাইন বলেন, নাম ও ঠিকানা দেন। আমি বিষয়টি দেখব।

প্রশাসনের এমন আশ্বাসে সুফিয়া বেগমের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তাঁর প্রকৃত অসহায়ত্ব যাচাই করে সরকারি বিধি অনুযায়ী বয়স্ক/বিধবা ভাতা, ভূমিহীনদের জন্য আবাসন বা ঘর নির্মাণ সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং অন্যান্য প্রযোজ্য সরকারি সুবিধার আওতায় তাঁকে আনা হবে।

একটি নিরাপদ ঘর ও ন্যূনতম সরকারি সহায়তা পেলে হয়তো দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে অসহায় সুফিয়া বেগমের। তাই দ্রুত তাঁর বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা