করোনাকালে নারীর প্রতি সহিংসতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে

বিবিসি একাত্তর বিবিসি একাত্তর

প্রকাশক বিবিসি একাত্তর

প্রকাশিত: ৫:৪৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০
বিবিসি একাত্তর ডেস্ক

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে নারীর প্রতি সহিংসতা, নারী ও মেয়েশিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে বলে সিএসডিএফের অনলাইন আলোচনা সভায় বক্তারা জানিয়েছেন। ‘করোনা সংকট: চট্টগ্রামে করোনা মহামারি চলাকালীন সময়ে পারিবারিক সহিংসতা’ শীর্ষক অনলাইন আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন। চিটাগাং সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিএসডিএফ) ও আমেরিকান কর্নার চট্টগ্রামের উদ্যোগে মঙ্গলবার এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ঢাকার স্টেপস প্রোগ্রাম অর্ডিনেটর চন্দন বলেন, ‘স্টেপস ও সিএসডিএফের পক্ষ থেকে দেশের ১২টি জেলায় সমীক্ষায় দেখা গেছে, করোনাকালীন সময়ে পারিবারিক সহিংসতা অনেকগুণ বেড়ে গেছে। লকডাউনের কারণে নারীরা ঘরের বাইরে যাওয়া কমালেও ঘরে তাদের উপর দায়িত্ব অনেকগুণ বেড়েছে। এছাড়া অধিকাংশ নারীরা কর্মহীন ওয়ার কারণে তাদের আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় পরিবারে অনেকেই নিগ্রহের শিকার হচ্ছে এবং তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে গেছে।’

মানবাধিকার কর্মী জেসমিন সুলতানা পারু বলেন, ‘করোনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও হয়রানি বেড়ে গেছে। ’

তিনি নারীর প্রতি সহিংসতারোধে তরুণ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্রিয় করার পরামর্শ দেন।

কারিতাসের আঞ্চলিক পরিচালক জেমস গোমেজ বলেন, ‘করোনায় প্রকৃতপক্ষে কী কী ধরনের সহিংসতা হয়েছে তার পরিসংখ্যান বের করা দরকার। বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ও সমাজ পরিবর্তনের কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে সম্পদের বণ্টন ও বিনিময় বাড়ানো যেতে পারে।’

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের পরিচালক অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, ‘করোনায় ভুক্তভোগী আইনি সেবা প্রার্থীরা আরও ভোগান্তির শিকার। মামলায় প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না, আদালতগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক না হলে এই সমস্যা আরও বাড়বে।’

আলোচনা সভায় নির্যাতনের শিকার নারীদেরকে পুর্নবাসন ও মনো-সামাজিক সহায়তা প্রদান, সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমগুলোতে ইতিবাচক সংবাদ তুলে ধরার জন্য প্রচারণা কর্মসূচি পরিচালনা করা, তরুণ সমাজকে নারীর প্রতি সহিংসাতা বন্ধে তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠাণগুলোকে নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে অধিক মনযোগী হওয়া, সহিংসতা বন্ধে সরকারি হেলপলাইন ৯৯৯ ও ৩৩৩ কে আরও জনপ্রিয় করা, সহজ শর্তে নারীদেরকে ঋণ প্রদান, সরকারি-বেসরকারি প্রণোদনা দিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তোদের আত্মনির্ভর করা, করোনা মোকাবিলাসহ নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সরকারি উদ্যোগে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে অধিক হারে যুক্ত করা এবং তহবিল বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।

সিএসডিএফ’র চেয়ারপার্সন এসএম নাজের হোসাইনের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট রেহানা বেগম রানু, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপিকা লতিফা কবির, এডাব ঢাকার পরিচালক এ কে এম জসিম উদ্দীন, আনসার ১৫ ব্যাটেলিয়ন পটিয়ার পরিচালক আজিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এম নাসিরুল হক প্রমুখ।