কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার হাসেক মার্কেট, সমিতি মার্কেট এবং কাঁচারাস্তার মাথা সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা অপসারণে অব্যবস্থাপনা ও ফুটপাত দখলের কারণে চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র দুর্গন্ধ, যানজট এবং চলাচলে ভোগান্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত স্থানগুলোতে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ না করায় সেখানে ময়লার স্তূপ জমে রয়েছে। এতে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ। ফলে বাজারে আসা ক্রেতা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, স্থানীয় হাসপাতালে আসা রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ময়লা পড়ে থাকায় মশা-মাছির উপদ্রবও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এতে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, এলাকার প্রধান সড়কসংলগ্ন ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানপাট। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন। এতে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। স্থানীয়দের দাবি, এ কারণে জরুরি সেবার যানবাহন—বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও অনেক সময় নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে না।
পৌরসভার সেবার মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, নিয়মিত ট্যাক্স ও বিভিন্ন ধরনের কর পরিশোধ করলেও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা মিলছে না। দুর্গন্ধ ও যানজটের কারণে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, অবৈধ দখলমুক্ত করে ফুটপাত জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা এবং যানজট নিরসনে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চকরিয়া পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে চকরিয়া পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযোজন করা হবে।