• মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০২:০৩ অপরাহ্ন
Headline
প্রথম দল হিসেবে ফুটবল ইতিহাসে যে নজির গড়ল স্পেন আবেগ নিয়ে খেলা বন্ধ হউক, স্থায়ী বেড়িবাঁধ চাই কক্সবাজারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে আইএসডিই বাংলাদেশ, দ্বিতীয় ধাপে পেল আরও ১ হাজার পরিবার চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি নিয়মিত রোগী দেখেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চকরিয়ায় ময়লার দুর্গন্ধ ও ফুটপাত দখলে চরম জনদুর্ভোগ, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী-নাগরিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের মধ্যেই চকরিয়ায় প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি, এলাকায় চরম আতঙ্ক সবুজায়নে আবু সুফিয়ানের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ চকরিয়ার একঝাঁক সাবেক ছাত্রনেতার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান বন্যাকবলিত সাতকানিয়ায় অর্থমন্ত্রী ও এমপি শাহজাহান ফাঁসিয়াখালীতে ত্রাণ বিতরণ ও নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি নিয়মিত রোগী দেখেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

মো. কামাল উদ্দিন, কক্সবাজার প্রতিনিধি: / ৫৪ Time View
Update : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

একসময় চিকিৎসক সংকট, রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা এবং নানা ধরনের সেবাগত অভিযোগে আলোচনায় ছিল কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) হিসেবে ডা. জয়নুল আবেদীন দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেছেন সেবাগ্রহীতা, স্থানীয় বাসিন্দা এবং হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিনই বহির্বিভাগে (আউটডোর) চিকিৎসাসেবা নিতে ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার রোগীরা। জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের সেবা কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো আগের তুলনায় পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা এবং রোগীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রশাসনের তৎপরতাও চোখে পড়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ডা. জয়নুল আবেদীন প্রায় প্রতিদিনই বহির্বিভাগে রোগী দেখেন। অনেক সময় নিজের কার্যালয়েও রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। সরকারি হাসপাতালের একজন প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে নিয়মিত রোগী দেখার বিষয়টি স্থানীয়দের নজর কেড়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তিনি রোগীদের সময় দেন, মনোযোগ দিয়ে সমস্যা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রদান করেন। এতে রোগীদের অপেক্ষার সময় কমেছে এবং সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে বলে তাদের অভিমত।

হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সময়ানুবর্তিতা, রোগীবান্ধব আচরণ, ওষুধ বিতরণে শৃঙ্খলা এবং হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত তদারকি করছেন টিএইচও। এর ফলে সেবার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সম্প্রতি চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন। ইউনিয়ন ভিত্তিক মেডিকেল টিম পরিচালনা, আশ্রয়কেন্দ্রে চিকিৎসাসেবা, সাপের কামড় ও পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা এবং ডেঙ্গু মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জায়নুল আবেদীন বলেন, প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব। সরকারি হাসপাতাল মানুষের আস্থার জায়গা। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সেবার মান আরও উন্নত করতে কাজ করছি। রোগীরা যেন দ্রুত, সহজে এবং মানবিক পরিবেশে চিকিৎসা পান, সেটিই আমাদের অগ্রাধিকার।

তবে স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি সরকারি হাসপাতালের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শুধু একজন কর্মকর্তার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন চিকিৎসক ও জনবল সংকট নিরসন, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা, পর্যাপ্ত ঔষুধ সরবরাহ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এসব বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম আস্থার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা