কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মোদাচ্ছেরকে কাঠের বাটাম নিয়ে মারতে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশপ্রহরী রিয়াদুল আলমের বিরুদ্ধে।
রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। এ ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত রিয়াদুল আলম স্থানীয় পশ্চিম সোনাইছড়ি গ্রামের ফরহাদুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দপ্তরী রিয়াদুল আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ছিল। এসব কারণে সহকারী শিক্ষকদের উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মোদাচ্ছের তাঁকে একটি শোকজ (কারণ দর্শানো) নোটিশ দেন। কিন্তু নোটিশটি গ্রহণ না করে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রিয়াদুল। একপর্যায়ে তিনি গালিগালাজ করতে করতে প্রায় দুই হাত লম্বা একটি কাঠের বাটাম নিয়ে প্রধান শিক্ষকের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন।
উপস্থিত অন্য শিক্ষকরা তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলেও তিনি তা উপেক্ষা করে বারবার আক্রমণের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদীন অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে দিলে প্রধান শিক্ষক প্রাণে রক্ষা পান। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সরাসরি এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ায় তাদের মধ্যে তীব্র ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
শিক্ষকরা জানান, দপ্তরী দায়িত্বে অবহেলা ও জাতীয় পতকা উত্তলন না করায় তাকে প্রধান শিক্ষক কারণ দর্শানোর নোটিশ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষকের উপর হামলা করতে তেড়ে আসে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইমরান সাইফুল জানান, ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে অবস্থান করলেও প্রধান শিক্ষক ও অন্য শিক্ষকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। শোকজ দেওয়ায় দপ্তরী রিয়াদ ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি নিয়ে আঘাত করতে এলে শিক্ষকরা রুমের দরজা বন্ধ করে প্রধান শিক্ষককে রক্ষা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেকুয়া উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশিষ বোস বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে দপ্তরী রিয়াদুল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত রিয়াদুল আলমের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক প্রধান শিক্ষক অনিয়মের অভিযোগ এনেছিলেন। সচেতন মহল ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের মতো পবিত্র স্থানে এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী দপ্তরির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রধান শিক্ষক মোদাচ্ছের বলেন, গতকাল জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করায় এবং বিভিন্ন অনিয়ম উপর ভিত্তি করে আমি শিক্ষকদের সাথে বৈঠক করে স্বাক্ষর নিয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দপ্তরী রিয়াদকে শোকজ নোটিশ প্রদান করি। কেন শোকজ নোটিশ দিলাম সেই কারণে আমাকে অকত্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং লাঠি নিয়ে আমাকে হত্যা চেষ্টা করে। আমার শিক্ষকগণ আমাকে রক্ষা করে এবং অফিসের দরজা বন্ধ করে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে।আমি আমার উর্ধতন কতৃপক্ষ প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পেকুয়া কে অভিহিত করি।আমাকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে বলেন এবং জিডি করতে বলেন।আমি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করবো। আমি এর বিচার চাই।