নাটোরের সিংড়ায় সার সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। ডিলারদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে হতাশ কৃষকরা। খোলা বাজারে ও পর্যাপ্ত সার মিলছে না। এতে করে আমন ধান নিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছে কৃষকরা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে দ্রুত সার সংকট নিরসন হবে। এজন্য ডিলারদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছে তারা।
জানা যায়, এবছর চলনবিল তথা সিংড়া উপজেলায় আউশ ৩৬৪০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। ইতোমধ্যে আউশ ধান লাগানো শেষ করেছে। আবার কেউ কেউ ধান কাটা শেষ করেছেন।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এবছর আমন রোপন হয়েছে ২৩৫০৫ হেক্টর জমিতে । চারা বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে। আমনের আবাদ আরো বাড়বে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এ জন্য সারের চাহিদা রয়েছে। উপজেলায় ২৩ জন সার ডিলার রয়েছে। উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন এবং পৌরসভায় এসব ডিলার নির্দিষ্ট জায়গায় সার বিতরণ করছে।
তবে ডিলারদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছে না কৃষকেরা। কৃষকরা ডিলারদের কাছে চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছে না। ডাহিয়া ইউনিয়নের কৃষক আ: আজিজ বলেন, উপজেলায় সারের চাহিদা আছে অথচ এখানের সার বিয়াশ বাজার হয়ে তাড়াশ থানায় যাচ্ছে।
বিয়াশ গ্রামের কৃষক আজাদুল, রুহুল আমিন সহ কয়েকজন জানান, তারা কেউ ২০ বিঘা কেউ ৫০ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত সার মিলছে না। সারের জন্য ডিলারদের কাছে ঘুরতে ঘুরতে জমির পানি শুকিয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারী রেট ইউরিয়া ১০৫০, খোলা বাজারে ১৩/১৪ শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টিএসপি সরকারী রেট ১৩৫০ খোলা বাজারে ১৭শ থেকে ১৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটাশ সরকারী রেট ১০৫০ খোলা বাজারে ১৩০০ কিংবা ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, সার সংকট কিছুটা রয়েছে তবে এ সংকট আগামী ১ সপ্তাহ পর থাকবে না। আমরা ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করি দ্রুত সংকট কেটে যাবে। কৃষকরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী সার পাবে।