মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে খোলা চিঠি
চকরিয়ার মালুমঘাট বা সাহারবিলে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’-এর যাত্রাবিরতির দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে খোলা চিঠি
দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ চালুর পর দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের মনে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে বিপুল আশা জাগলেও কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চকরিয়া, পেকুয়া ও পার্শ্ববর্তী পার্বত্য অঞ্চলের লক্ষ লক্ষ মানুষ। এই বঞ্চনা দূর করতে এবং চকরিয়ার মালুমঘাট বা সাহারবিল রেলস্টেশনে ঢাকাগামী ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে এক খোলা চিঠি দেওয়া হয়েছে।
চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, কুতুবদিয়া, মহেশখালী এবং বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলার সাধারণ জনগণের পক্ষে এই আবেদন জানানো হয়।
উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ও প্রশাসনিক ভূমিকার প্রশংসা
খোলা চিঠিতে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এ অঞ্চলের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। চকরিয়া পৌরসভা, বমু বিলছড়ি, সুরাজপুর-মানিকপুর, ঢেমুশিয়া এবং পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা গঠনে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া দীর্ঘ দুই যুগ পর চকরিয়ার উপকূলীয় সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে বহুল কাঙ্ক্ষিত ‘মাতামুহুরী উপজেলা’ গঠনের উদ্যোগ এবং হারবাং, বরইতলী ও ডুলাহাজারাকে বিভক্ত করে উত্তর হারবাং, পহরচাঁদা ও মালুমঘাট ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের কথা স্মরণ করে স্থানীয় জনগণ তাঁর নেতৃত্বের প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করেন।
জনদুর্ভোগ ও আঞ্চলিক বঞ্চনার চিত্র
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, চোখের সামনে দিয়ে ট্রেন ছুটে গেলেও নিজ এলাকার স্টেশন ব্যবহার করতে না পারা স্থানীয়দের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। মালুমঘাট, সাহারবিল ও হারবাং এলাকায় রেলস্টেশনের মতো আধুনিক অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও সেখানে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল বিকল্প পরিবহনে ভ্রমণ করতে হচ্ছে।
যদিও ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণ মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন, তবে খোলা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়—অবরোধ বা সংঘাত নয়, বরং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও দূরদর্শী পদক্ষেপই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সুনির্দিষ্ট দাবি
জনগণের পক্ষে চিঠিতে আবেদন জানানো হয়, যেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় রেলপথ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও সচিবের সাথে আলোচনা করেন এবং প্রয়োজনে একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্র (DO Letter) প্রেরণের মাধ্যমে বিষটি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।
চকরিয়ার মালুমঘাট অথবা সাহারবিল রেলস্টেশনে অন্তত ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের স্বল্প সময়ের জন্য স্টপেজ (যাত্রাবিরতি) মঞ্জুর করা হলে অন্তত ৬টি উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াত সাশ্রয়ী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
চিঠির শেষাংশে উল্লেখ করা হয়, এটি কোনো অহেতুক দাবি নয়; বরং নিজ এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়া গণপরিবহনের সুফল ভোগ করার একটি ন্যায্য অধিকার। এলাকার উন্নয়ন রূপকার হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি আন্তরিক সুপারিশই এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বিনীত – গিয়াস উদ্দীন সিকদার