কক্সবাজারের পেকুয়া পৌরসভার জালিয়াখালী এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত দুই ভাই মোহাম্মদ শাহিন (২৫) ও মোহাম্মদ আনিছকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জালিয়াখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—মোহাম্মদ আনিছ (২০), মোহাম্মদ শাহিন (২৫), মোহাম্মদ ছোটন (২৩), সবুতআরা বেগম (৫০) ও মফিজুর রহমান (৬০)।
আহত শাহিনের অভিযোগ, ঘটনার আগের রাতে স্থানীয় নূরুল হোছেনের ছেলে ছায়েদ (২২) তাদের বাড়িতে গিয়ে চুরির চেষ্টা করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা তাকে আটক করেন বলে দাবি করেন শাহিন। পরে নূরুল হোছেন কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে ছায়েদকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ সময় নূরুল হোছেন তাদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ করেন শাহিন।
শাহিনের দাবি, পরদিন ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি বাজারে যাওয়ার পথে নূরুল হোছেনের নেতৃত্বে পারভেজ, ফারুক, ছায়েদ, জাহেদ, তোফাইল, মানিক ও জকির লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। এ সময় তার পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ওপরও হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য আহত হন।
শাহিন বলেন, হামলায় তিনি ও তার ভাই আনিছ গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের চমেক হাসপাতালে রেফার করেন।
হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে নূরুল হোসাইন, পারভেজ, ফারুক, ছায়েদ, জাহেদ, তোফাইল, মানিক ও জকিরের নাম উল্লেখ করেছেন শাহিন।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নূরুল হোসাইন। তিনি দাবি করেন, পেকুয়া সদর ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ‘ভেট্টা’র ছেলে শাহিন মোবাইলে জুয়া ও নেশায় জড়িত ছিলেন। এর প্রতিবাদ করায় ভেট্টার ছেলেরা তার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি ও তার ছেলে ছায়েদও আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আহত পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”