ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন ‘হিউম্যানিটারিয়ান ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নানা সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে যৌথ সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠন ‘ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়ের মিয়া স্মৃতি স্পোর্টিং ক্লাব’।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে হরিণাকুণ্ডুর শিংগা আল জামেয়াতুল ইসলামিয়া মডেল মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ, এতিম শিশু ও শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার পরিবেশন এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাদ্রাসা ও এতিমখানার প্রায় ৪০ জন এতিম শিশু ও শিক্ষার্থীর জন্য উন্নত মানের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে ফলজ, বনজ ও ছায়াদানকারী মোট ৩৫০টি গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়।
সংগঠনটির সভাপতি ও সমাজসেবক মো. হামিদ পারভেজ মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় হরিণাকুণ্ডু উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। তবে ব্যস্ততার কারণে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। পরে মুঠোফোনে আয়োজকদের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সংগঠনটির সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিংগা আল জামেয়াতুল ইসলামিয়া মডেল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হাফেজ মো. মোখলেসুর রহমান, সহকারী শিক্ষক হাফেজ মিজানুর রহমান, ক্বারি মো. শরীফ হোসেন, মাদ্রাসা কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনাসদস্য মো. রবিউল ইসলাম এবং স্থানীয় মুসল্লি উজ্জল হোসেন। এ সময় উভয় সংগঠনের যুব নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে এতিম শিশু ও শিক্ষার্থীদের মাঝে দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়। পরে অতিথিরা শিশুদের সঙ্গে একই সারিতে বসে খাবার গ্রহণ করেন। এ সময় শিশুদের সঙ্গে অতিথিদের একসঙ্গে বসে খাবার খাওয়ার মধ্য দিয়ে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মানবিকতার এক আন্তরিক পরিবেশ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচিও সম্পন্ন করা হয়। সবশেষে দেশ, জাতি, এতিম শিশুদের কল্যাণ এবং উভয় সংগঠনের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মো. মিজানুর রহমান।