কক্সবাজারের পেকুয়ার পাহাড়ী অঞ্চলের শীর্ষ ডাকাত ও স্ত্রী হত্যা মামলার প্রধান আসামী ডাকাত আলমগীরকে (৪০) পেকুয়া থানা পুলিশকে ধরিয়ে দিলেন ভূক্তভোগী সাধারণ জনতা। কথায় আছে “ঢেঁকি মক্কা গেলেও ভারা বাঁধে” স্ত্রী হত্যা মামালায় আটক হয়ে দীর্ঘ ৭ বছর অন্ধকার প্রকোষ্টে থাকার পরেও সামান্যতম অনুশোচনা আসেনি এ ডাকাত আলমগীরের জীবনাচরণে। মুক্ত আকাশ ফিরে পেয়েও থেমে থাকেনি তার অপরাধমুলক কর্মকান্ড।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২ টায় টইটং ইউনিয়নের পাহাড়ী লেইনের শিরা এলাকা থেকে পুলিশে দিলেন ভূক্তভোগী জনতা। আটক আলমগীর বারবাকিয়া ইনিয়নের ছনখোলার জুম এলকার মৃত জাফর আলমের পুত্র। তার বিরুদ্ধে হত্যা,চাঁদাবাজি,দখলবাজি,মারামারি ও বনজ সম্পদ লুটসহ বহু মামলা রয়েছে।
ভূক্তভোগীদের পক্ষে জাইদুল হক ও মোঃ নাজু জানান, ডাকাত আলমগীর নিজ স্ত্রী সালমা হত্যা মামলায় আটক হয়ে কারাগারে ছিল দীর্ঘ ৭ বছর। আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর বর্তমান সরকার দলীয় স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার সহযোগিতায় আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে ফের চাঁদাবাজি ও দখলবাজি চালিয়ে আসছিল। রাতের বেলায় দারালো কিরিচ নিয়ে চলাচল রাস্তায় মহড়া দিতে। তার এহেন কর্মকান্ডে পাহাড়ে বসবাসরত সাধারণ নারী-পূরুষ সদা আতংকে রাত কাটাতো। এনিয়ে পেকুয়া থানায় বেশ কয়েকটি সাধারণ ডায়েরী এবং অভিযোগও দেয়া হয়েছিল। এরপরেও তার দখলবাজি ও রাতের বেলায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া থেমে থাকেনি। আজ সকালে মোঃ নাজুর দখলীয় জায়গা জবর দখল করতে গেলে স্থানীয়রাসহ আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘেরাও করে পেকুয়া থানা পুলিশকে খবর দিই। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে একটি বন মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানাও ছিল। যার নং ৮২/১৭।
অভিযানে যাওয়া পেকুয়া থানার উপ-সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এ এস আই) ফরিদুল আলম আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,জবর দখল করতে যাওয়া আলমগীর নামে একজনকে স্থানীয়রা আটক করে রাখার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আটক ব্যক্তির পিসি যাচাই করে দেখি তার বিরুদ্ধে বন মামলা আইনে গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে। ওসি স্যারের নির্দেশে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি এবং আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।